নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন। এদিকে, মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইজিবাইক গ্যারেজ মালিক সোহেল ও ইজিবাইকচালক ফারুক মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মহসিনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জাকির হোসেনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অপর দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন আগে জাকির হোসেন নিহত মোতালেব মিয়ার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা পরিশোধের কথা বলে তিনি মোতালেব মিয়াকে নিজের বাসায় ডেকে নেন।
পরে বাসায় নিয়ে গিয়ে মোতালেব মিয়ার কাছে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জাকির মোতালেব মিয়ার বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জেনে নিয়ে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৬৮ হাজার টাকা নিজের মোবাইলে স্থানান্তর করে নেন।
পুলিশের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে মোতালেব মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে জাকির তার দুই সহযোগীর সহায়তায় মরদেহ একটি তোশকে পেঁচিয়ে ইজিবাইকে করে নিয়ে গিয়ে রাতের আঁধারে সড়কের পাশে ফেলে দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে জামতলা সড়কের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর প্রযুক্তির সহায়তায় জাকির হোসেনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে আশপাশের বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন জাকির মোতালেব মিয়াকে তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।
একই সিসিটিভি ফুটেজে রাতের দিকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। সেখানে জাকিরসহ আরও দুজনকে ইজিবাইকের পেছনে দৌড়াতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই বন্দর এলাকা থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে নিহত মোতালেব মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, টাকা এবং একটি টিফিনবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নিহত মোতালেব মিয়া (৬৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন।

