নিজস্ব সংবাদদাতা
বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুক—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে আয়োজিত এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল কিংবা শোষণের মতো কোনো বিষয়ে আগ্রহী নয়। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু চীনকে ঘিরে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সংকটের ভুক্তভোগী এখন সবাই।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতা সহজে শেষ হওয়ার নয় বলে মন্তব্য করেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তাঁর মতে, এর পেছনে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং ‘আমি চাই না তুমি ধনী হও’—এ ধরনের মানসিকতা কাজ করছে।
ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে দেশ দুটি প্রায় একই অবস্থানে ছিল। তবে চীন কৃষি খাত থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে গুরুত্ব দেয়, অন্যদিকে ভারত কৃষি থেকে সেবা খাতে বেশি মনোযোগী হয়। এর ফলে চীন অনেকটা এগিয়ে যায় এবং প্রতিযোগিতায় ভারত কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি অংশ এবং দেশটি স্থিতিশীলতা চায়, কারণ বাংলাদেশ উন্নতি করতে চায় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দেশগুলো ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করতে পারলেও বাংলাদেশ সে অবস্থানে নেই। কারণ এসব দেশ উৎপাদনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ এখনো ভোক্তা পর্যায়ে রয়েছে।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের প্রধান চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় বাংলাদেশের নেই। দিন শেষে এসব পরিস্থিতির ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষই হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, সেই যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সংঘাত নয়, উন্নয়ন ও স্থিতিশীল পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে চায়।

