নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও ডিজিটাল করতে সুপ্রিম কোর্ট চালু করেছে হেল্পলাইন সেবা। এই সেবার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের হাজারো বিচারপ্রার্থী আইন, আদালত ও মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সহায়তা পাচ্ছেন। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন প্রথমবারের মতো এই হেল্পলাইন সেবা চালু করে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেবা প্রদান করা হয়। হেল্পলাইনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনলাইন সেবার জন্য রয়েছে ‘১০৩’ নম্বরও।
হেল্পলাইন সেবার জন্য ০১৩১৬-১৫৪২১৬ এবং ০১৭৯৫-৩৭৩৬৮০ নম্বরে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করা যায়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’কে জানান, এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণ যাতে সর্বোচ্চ উপকার পায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৯১২টি কল এসেছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এসেছে ২ হাজার ৯০৫টি কল। এসব কল থেকে আইনি পরামর্শ, মামলা সংক্রান্ত তথ্য এবং অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, আইনি পরামর্শের জন্য ৩১৭টি কল এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য জানতে ৫০৪টি কল এসেছে, যেগুলোর উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত ৩৫৪টি কল এসেছে, যা সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত চার মাসে সুপ্রিম কোর্ট ও জেলা আদালত সংক্রান্ত অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও সেবা প্রদানে বিলম্ব নিয়ে মোট ৫৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৮টি অভিযোগ ছিল বিলম্বিত সেবা, নথি হারানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তি সংক্রান্ত। এসব সমস্যার বেশিরভাগই সমাধান করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া বিচারক ও আদালত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মোট ১০টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের বিরুদ্ধে ১টি, জেলা আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে ৭টি এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ২টি অভিযোগ রয়েছে। কিছু অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং বাকি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, হেল্পলাইন ১০৩-এ বহু কলের ক্ষেত্রে কলারদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, এমন কলের সংখ্যা ১ হাজার ৬৭২টি। বিচারব্যবস্থার সেবার পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলা আদালত এবং ৮টি মহানগর দায়রা জজ আদালতেও পৃথক হেল্পলাইন চালু রয়েছে, যা বিচারপ্রার্থীদের সেবা আরও সহজ করেছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

