জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ঘোষিত বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ পালনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল সমগ্র বাংলাদেশ। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষও তাকে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করেছে।”
কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে নজরুল প্রথমবারের মতো ত্রিশালে এসেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তার সৃষ্টিকর্ম ছিল অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুল কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায় নন; তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জাতীয় কবির জীবন, দর্শন ও কর্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বছরব্যাপী এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৫ মে ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।

