নিজস্ব সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ঘিরে সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও সহিংসতা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সদর উপজেলা পরিষদের ১৩টি পশুর হাটের দরপত্র উন্মুক্তকরণ ও ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের নিজ কার্যালয়ে দরপত্রগুলো উন্মুক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন। সর্বোচ্চ দরদাতাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় সেদিনই।

স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল একটি স্বস্তিদায়ক ও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। কারণ এর আগে প্রায় প্রতি বছরই হাটের ইজারা ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এমনকি সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে। গত বছরের ২৫ মে দরপত্র কেনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। কোনো কোনো বছরে গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধান ফটক খোলা রাখা হলেও অন্যান্য প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দরপত্র উন্মুক্তকরণ চলাকালে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে ইউএনও’র কক্ষে যাতায়াত করতে দেখা গেলেও মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে পুরো প্রক্রিয়া ছিল নিয়ন্ত্রিত ও শান্তিপূর্ণ।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইজারা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে আগে থেকেই একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রতিটি দরপত্র আইনগত ও আর্থিকভাবে পর্যালোচনা করে তারপরই সর্বোচ্চ দরদাতাকে নির্বাচন করা হয়।

ইউএনও এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সরকারের রাজস্ব সঠিকভাবে আদায় করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ইজারা চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন হাটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিম কাজ করবে।

Share.
Exit mobile version