সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা একাধিক আপিলের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেন। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক আপিল দায়ের করেন।
আদালতে সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অপর আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন এনে জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ও এর কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করা হয়। এসব রিটের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদের বিধানও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে গণভোট সংক্রান্ত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোপুরি বাতিল না করে অন্য বিধানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সংসদ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এখন হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। বৃহস্পতিবারের রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

