নিজস্ব প্রতিবেদক

অল্পতেই ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন—এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এ সমালোচনা করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে দাবি করেছেন যে বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপানজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছে। কিন্তু ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো কর্মসূচি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে হয়নি এবং এটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া” তথ্য।

তিনি আরও বলেন, সরকার ৫১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকার দাবি করলেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। তাঁর মতে, যে সরকার জনগণকে গুরুত্ব দেয় না, সেই সরকার প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার হতে পারে না।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে জানানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ভুল তথ্য উপস্থাপন দেশের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের তথ্য সরবরাহ করেন তাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন হয়নি। বরং এসব সমস্যা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম)সহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনদুর্ভোগের বিষয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

Share.
Exit mobile version