স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবলকে আরও বিস্তৃত বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করছে ফিফা। তারেই অংশ হিসেবে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা ৩২ দলের ফরম্যাট বাতিল করা হযেছে।  ২০২৬ আসরে অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। ফিফা একে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে ঘোষণা করেছে।

নতুন কাঠামোয় ম্যাচ সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। টুর্নামেন্টের সময়সীমাও প্রায় ছয় সপ্তাহে সম্প্রসারিত হচ্ছে। চারটি দল নিয়ে গঠিত হয়েছে ১২টি গ্রুপ। নতুন ফরম্যাটে যুক্ত হয়েছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ যা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে দেখা যাবে।

গ্রুপ পর্বে প্রতিটি গ্রুপে চার দল থাকলেও প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে মাত্র ১২টি দল। নকআউট পর্বে উঠবে ৩২টি দল প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী।

এশিয়া ও আফ্রিকার মতো অঞ্চলের জন্য বাড়তি কোটা বাড়ায় তুলনামূলকভাবে ছোট দেশগুলোর বিশ্বমঞ্চে জায়গা পাওয়ার সুযোগ বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, এতে গ্রুপ পর্বে প্রতিযোগিতার তীব্রতা কিছুটা কমে যেতে পারে।

বর্ধিত এই ফরম্যাটের সঙ্গে সমানভাবে বেড়েছে আর্থিক পরিসরও। ২০২৩–২০২৬ অর্থচক্রে ফিফার মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বড় অংশ আসবে এই বিশ্বকাপ ঘিরে।

ফিফা জানিয়েছে, এবারের আসরে মোট প্রাইজমানি ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল প্রস্তুতি খরচ হিসেবে পাবে ১৫ লাখ ডলার।

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ৯০ লাখ ডলার। শেষ ৩২ পর্বে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার। কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানধারী পাবে যথাক্রমে ২ কোটি ৯০ লাখ এবং ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার।

ক্লাব পর্যায়েও বাড়ানো হয়েছে অর্থ বরাদ্দ। খেলোয়াড় ছাড়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম’-এর বাজেট ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে ফিফা।

ফলে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি বা বায়ার্ন মিউনিখের মতো বড় ক্লাবগুলোর পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট ক্লাবগুলোও বিশ্বকাপ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

সব মিলিয়ে নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপকে ফুটবলের সম্প্রসারণ যেমন বলা হচ্ছে, তেমনি এটিকে এখন বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বড় আসর হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version