শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে হামলার শিকার হবার পর রাতেই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। অভিযানে পশ্চিম দেওভোগের নূর মসজিদ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র ও টাকা জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার রাত ৯টায় শুরু হওয়া অভিযানে অন্তত ১৩ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর উপঅধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক। আটককৃতরা হলো, মো. সোহেল রানা (৪০), মো. আব্দুর রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মো. শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মো. ইমন প্রধান (২৬), মো. আকাশ (৩০), মো. রুবেল (৩৭), মো. আরাফাত হোসেন (২৮), মো. সুজন (৩২), মো. হৃদয় মিয়া (৩২), মো. টুটুল খান (৩৮) ও মো. রেজাউল করিম (৪৮)। এসময় পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলি, ৭টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি রাম দা ও ৪টি চাপাতিসহ বেশকিছু ধারালো অস্ত্র, ৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ১টি ড্রোন, নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫শ’ টাকা, ২শ’ ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এরআগে, মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩ র‌্যাব কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আহতদের মধ্যে মাহী ও ইব্রাহীম নামে র‌্যাবের ২ সদস্যকে সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহত এসআই নজিবুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
র‌্যাব কর্মকর্তা নাঈম উল হক বলেন, মাদক স্পটটিতে রাসেল ও রাশেদ মাদকের ডিলার। তারা ২ ভাইসহ তাদের সহযোগী রাজু এবং আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। চট্টগ্রামের কক্সবাজার থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য নারায়ণগঞ্জে এনে মজুদ রেখে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন তারা।
এদিকে, মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে ব্রিফিং তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যে সকল মাদকের স্থান রয়েছে সেগুলোতে বিগত কয়েকদিন ধরে আমরা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকাটি কিশোরগ্যাং, মাদক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এলাকায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে র‌্যাবের একটি গোয়েন্দা দল সুনির্দিষ্ট মাদকের স্থান শনাক্ত করতে যায়। কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে মাদক সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায় এবং র‌্যাবের ৩ জন সদস্য আহত হয়। তবে গোয়েন্দা দলটি তাদের কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি এবং মাদকের স্থানগুলো শনাক্ত করেছে বলেও জানান ওই র‌্যাব কর্মকর্তা।
এই অভিযান শুধু মাসদাইর এলাকার জন্য নয়, এটি নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি এলাকা ও পাড়া-মহল্লার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সুস্পষ্ট বার্তা। যারা কিশোরগ্যাং ও মাদকের কারবারে যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন তাদেরকে বলতে চাই, আপনারা এখনই অন্ধকার পথ পরিত্যাগ করুন। অন্যথায় র‌্যাবের কঠোর অবস্থান চলমান থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে বদ্ধপরিকর।

Share.
Exit mobile version