নিজস্ব প্রতিবেদক
চলনবিল অঞ্চলে সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেসকো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ পেয়েছে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্থাটির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ বছর আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি (নালা) এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছে সিধুলাই। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য উদ্ভাবনী সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতিই ছিল এ অর্জনের ভিত্তি।
চলনবিলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাসমান বিদ্যালয় পরিচালনা করছে সংস্থাটি। বর্ষা মৌসুমে যখন অনেক এলাকা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন এই নৌকাভিত্তিক শ্রেণিকক্ষই শিশুদের জন্য শিক্ষার প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে।
শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি এসব নৌকায় গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি প্রতিটি নৌকায় রয়েছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা।
বর্তমানে সিধুলাই ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১০টি নৌকা গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব হিসেবে কাজ করছে। বাকি নৌকাগুলো প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দুর্গম ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সক্ষম করে তোলে।
সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, যে সমস্যা একটি সম্প্রদায় প্রতিদিন মোকাবিলা করে, তার সমাধানের ধারণাও অনেক সময় সেই সম্প্রদায়ের মধ্যেই থাকে। এই স্বীকৃতি সেই স্থানীয় উদ্ভাবন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।
ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ অফিসপ্রধান সুসান ভাইজ বলেন, সাক্ষরতা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম করে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১৯৬৭ সাল থেকে সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেসকো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এবং ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছিল।


