নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে শতাধিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপস শনাক্ত করে তা বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এ তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে চারটি জুয়ার সাইটের সঙ্গে জড়িত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ১ মে থেকে পরিচালিত সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ১১৬টি অবৈধ ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৮৭৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ-কে অনুরোধ করা হয়েছে।
সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার চক্র শনাক্ত করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে প্রথমে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর পলাশ ও ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের জসীম উদ্দীন, নরসিংদীর তৈয়ব খান ও সৌমিক সাহা, লক্ষ্মীপুরের কামরুজ্জামান এবং কিশোরগঞ্জের আব্দুর রহমান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ পঞ্জি স্কিম থেকে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনতেও সফল হয়েছিল।

