ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচিকে ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা এলাকায় হাজারো মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হতে শুরু করেন। একই দিন দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনার ঘোষণা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কফিন আনার আগেই মোসাল্লা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা ও ব্যানার। সেখানে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুধুমাত্র তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং আকাশপথেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা শোকাহত মানুষ ও দর্শনার্থীদের আবাসনের সুবিধার্থে দেশজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রেণিকক্ষ অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার ও রোববার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা জানাবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কূটনীতিকরা ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের শত শত সাংবাদিকও এই কর্মসূচি কাভার করছেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শোকযাত্রা ইরানের কোম শহরে যাবে। পরে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে খামেনির মরদেহ ইরানের মাশহাদ শহরে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

