নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল এবং আগের ডিজিটাল মিটার বহাল রাখার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত গ্রাহকদের গণ-অনশন কর্মসূচি স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে সরে আসেন।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া নাগরিক অধিকার ফোরামের টানা দুই ঘণ্টার অনশন কর্মসূচিতে বেলা পৌনে একটার দিকে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।
বিতর্কিত প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই অনশনের ডাক দিয়েছিল স্থানীয় সংগঠনটি। তাদের মূল অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতে সংঘটিত বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির দায় এখন সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে আদায় করার চেষ্টা চলছে। নতুন মিটারের স্ল্যাব পদ্ধতির কারণে বর্তমানে আবাসিক ব্যবহারকারীদের দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন সংগঠনের নেতারা। নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান জানান, প্রিপেইড মিটার এখন সাধারণ মানুষের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পাড়া-মহল্লায় জোরপূর্বক এই মিটার লাগাতে এলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। যাদের বাসায় ইতিমধ্যে নতুন মিটার বসানো হয়েছে, অবিলম্বে তা খুলে পুরোনো ডিজিটাল ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে প্রকাশ্যেই একাত্মতা পোষণ করেছেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম। শহরের একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে তিনিও এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে স্বীকার করেন। তবে বিষয়টি সরাসরি সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের হওয়ায় তাৎক্ষণিক সমাধানের বদলে চলমান সংসদ অধিবেশনে এটি নিয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের শীর্ষ মহল জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট একই দাবিতে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও গণমিছিল থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ না হলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই অনশন পালিত হয়। এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে সংসদে কতটা সোচ্চার হন এবং বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে নারায়ণগঞ্জের এই জন-অসন্তোষের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।
নীতিগত কোনো পরিবর্তন না এলে পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

