বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ১৪ কোটির কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাসের মধ্যেই ২০২৭ সালের বাজেট ১৬ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। একই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মী পদ কমানোর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থসংকটের কারণে ২০২৭ সালের জন্য ইউএনএইচসিআরের বাজেট কমিয়ে ৭১৪ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সংস্থাটির সবচেয়ে কম বাজেট।
ট্রাম্প প্রশাসনসহ বড় দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় সংস্থাটির কার্যক্রমের পরিধি ও বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। জেনেভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকে সংশোধিত বাজেট পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হয়।
তবে ইউএনএইচসিআরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অতীতে অনুমোদিত অনেক পদই পূরণ করা হয়নি। ফলে পরিকল্পনায় ৩ হাজার ৫০০ পদ কমানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সরাসরি এতসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই নাও হতে পারে।
অর্থসংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমে পড়েছে। ২০২৫ সালের বড় ধরনের অর্থঘাটতির পর কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার একটি অফিস বন্ধ করা হয়েছে। ব্যয় কমাতে জেনেভায় সংস্থাটির সদর দপ্তরও কম ভাড়ার একটি ভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
সংস্থাটির প্রধান বারহাম সালিহ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখার আশা প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএনএইচসিআরের সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ২০২৫ সালের ৮০ কোটি ডলার থেকে কমে চলতি বছর ১১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। নতুন বাজেট পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আমেরিকা অঞ্চলে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানো হচ্ছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বরাদ্দও ২২ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা কার্যক্রমও রয়েছে। এ ছাড়া সুদান সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের বরাদ্দ কমছে ২১ শতাংশ।
ইউক্রেন ও সুদানসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে ২০২৭ সালে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট কমানোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ও উগান্ডার মতো শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট আগামী অক্টোবর মাসে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

