নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্কে ‘বন্দুক’ হাতে ঘোরাফেরা ও পথচারীদের দিকে অস্ত্র তাক করে ভয় দেখানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে দুটি খেলনা বন্দুক জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর বাজার এলাকা থেকে ভিডিও নির্মাতা লিমন তোহা ও ইয়াসিন মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে সদর থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত বাদী হয়ে মামলা করেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেফতার দুই যুবককে আদালতে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, আদালতের মাধ্যমে লিমন তোহা ও ইয়াসিন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ব্যবহৃত দুটি বন্দুক উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হলে সেগুলো খেলনা বন্দুক হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে দুটি খেলনা বন্দুকই জব্দ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই যুবককে নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্কের বিভিন্ন স্থানে ‘বন্দুক’ হাতে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তির দিকে বন্দুক তাক করতেও দেখা যায়। মানুষের ভয় ও আতঙ্কের প্রতিক্রিয়াও ভিডিওতে ধারণ করা হয়।
ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। পরে ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও এটি প্রকাশ করা হয়। লিমন দাবি করেছেন, তিনটি অ্যাকাউন্টই তার।
লিমন তোহা পুলিশকে জানান, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি কনটেন্টটি তৈরি করেন। বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তার দাবি, ভিডিওটি মূলত ‘ফানি ভিডিও’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ফেসবুকে প্রকাশের পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেন। পরে তিনি নিজের পেজ থেকে ভিডিওটি মুছে দেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, লিমন তোহা ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে টিকটক করেন। অন্যদিকে ইয়াসিন মোল্লা ২০২২ সালে এসএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি এবং প্রায় দুই বছর ধরে টিকটক করছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসে। পরে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে।

