নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু হয়েছে। সভায় ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এটি তৃতীয় এবং বর্তমান সরকারের অষ্টম একনেক সভা। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থের দিক থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় একনেক সভা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১৬ প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে ২৫ হাজার ২৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৪০ হাজার ১৬৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১২টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত।
ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) সাউদার্ন রুট’। এতে মোট ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দুটি প্রকল্পও একনেকের এজেন্ডায় রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
স্বাস্থ্য খাতের দুটি প্রকল্পেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সড়ক খাতের দুটি প্রকল্পে যথাক্রমে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ ও ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল সেনানিবাস স্থাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এ ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পে যথাক্রমে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ ও ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন, মনপুরায় বিদ্যুৎ বিতরণ এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তিনটি সংশোধিত প্রকল্পও একনেকের তালিকায় রয়েছে। তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়নে একটি নতুন প্রকল্পে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
এর আগে বর্তমান সরকারের মেয়াদে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের নয়টি প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে বড় একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন পেলে অর্থের পরিমাণের দিক থেকে সেটিই হবে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় একনেক সভা।

