নিজস্ব সংবাদদাতা
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানে প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী।
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এটি উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, যৌথ বিনিয়োগ ও ইজারার মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, এমন পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের সেবা দিতে পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হবে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভালের আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, পর্যটনের সব উপাদান থাকা সত্ত্বেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস ভিডিওবার্তা দেন। অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার দেওয়া হয়।

