নিজস্ব সংবাদদাতা
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতীব কাউন্সিলের সমন্বয়ক মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন এবং কারাগারে তাঁদের দুঃসহ বন্দিজীবনের স্মৃতি স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন আর যেন ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে কেউ যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আলেমদের সম্মান করতেন। ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজন করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ অন্তর্ভুক্ত করেন।
নিজেকে ‘সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মানুষ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইসলামি মূল্যবোধ ও শরিয়ায় আঘাত আসে, এমন কোনো কাজ যাতে কেউ না করেন, সে বিষয়ে তিনি লক্ষ্য রাখবেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো এবং সেসব দেশ থেকে বিনিয়োগ ও অনুদান আনার ক্ষেত্রে দেশের আলেম সমাজের আরবি ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত সংযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা সফরের আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসা দুটি সফর এবং হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

