নিজস্ব প্রতিবেদক
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জের ‘হাজারি গুড়’। জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত এই বিশেষ ধরনের গুড় দীর্ঘদিন ধরে তার স্বতন্ত্র স্বাদ, সুগন্ধ ও ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির জন্য সারা দেশে পরিচিত। প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এ পণ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সুনাম কুড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি জানান, জিআই সনদ পাওয়ার ফলে মানিকগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর জিআই নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১ এর মাধ্যমে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি নিবন্ধিত হয়েছে।
হাজারি গুড় প্রস্তুতকারী পরিবারের সদস্য শামিম হাজারী জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার জিআই সনদের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে কাজ করেন।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও গাছিদের ভাষ্যমতে, একসময় ঝিটকার হাজারি গুড় দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পরিচিতি লাভ করেছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও এ গুড়ের স্বাদ গ্রহণ করে এর প্রশংসা করেছিলেন। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত বা প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি, তবুও এ গল্প এখনো স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে।
হরিরামপুরের ঝিটকা এলাকার গুড় প্রস্তুতকারী রহিজ উদ্দিন ও মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, জিআই সনদ পাওয়ার ফলে হাজারি গুড়ের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নকল পণ্যের বিস্তার রোধ করা সহজ হবে এবং প্রকৃত উৎপাদকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। এতে বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে তারা মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে হাজারি গুড়ের জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া গতি পায়। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চল বহু বছর ধরে খেজুরের রস থেকে এই বিশেষ ধরনের গুড় উৎপাদনের জন্য পরিচিত। সারা দেশে মানিকগঞ্জের ‘হাজারি গুড়’ নামে পরিচিত এ পণ্য তার অনন্য স্বাদ, মনমাতানো সুগন্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুতপ্রণালীর কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক সমাদৃত। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে নতুন মর্যাদা অর্জন করল।


