নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে দেশের মানুষই বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। যারা সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না বলে হুমকি দিচ্ছে, তারা মূলত জনগণের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে শ্রীমঙ্গল হয়ে তিনি মৌলভীবাজারে পৌঁছান। সেখানে প্রান্তিক নারীদের কল্যাণে অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে মোট ২২টি জেলায় তৃতীয় পর্যায়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির একযোগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।
সমাবেশে একটি রাজনৈতিক দলের অতীতের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর কিংবা ছিয়াশিতে তারা কী করেছিল এবং বিগত এক যুগের আন্দোলনে তারা কোথায় ছিল, তা মুরুব্বিদের অজানা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা শহীদ, গুম কিংবা বছরের পর বছর মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে তারা সবাই শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কর্মী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ স্বৈরাচারমুক্ত দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য বিএনপিকে স্পষ্ট রায় দিয়েছে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক যুগে দেশ থেকে যেভাবে অর্থ পাচার হয়েছে, দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে এখন তা রুখে দেওয়া হবে। দেশের সম্পদ দেশেই থাকবে এবং তা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যবহার করা হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে জনগণ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছিল, ঠিক সেভাবেই সকলে মিলে হাতে হাত রেখে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
নেতাকর্মীদের দেশ গড়ার রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করার শপথ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানিভাতা প্রদানের মতো নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নির্বাচন পর্যন্ত দলীয় প্রতিযোগিতা থাকলেও ১৭ তারিখের পর এই সরকার দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার হিসেবে কাজ করছে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস এবং মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।


