বছরের পর বছর অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবিবা, ফারিস্ট, এফএস ফাইনান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরত দেওয়ার স্কিম চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হতে পারে। সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়ার পর নির্ধারিত স্কিম অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, পাঁচ ব্যাংকের জন্য আগে যে ধরনের স্কিম করা হয়েছিল, তার আদলে চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক একটি স্কিম তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়ার পর সেটি ঘোষণা করা হবে এবং স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত স্কিম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত আমানত থাকা গ্রাহকরা পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৯০ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমানতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ধাপে ফেরতের হারও কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, চূড়ান্ত স্কিমে অর্থ ফেরতের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। কারা পুরো অর্থ পাবেন, কারা আংশিক অর্থ পাবেন এবং আংশিক অর্থ পাওয়া গ্রাহকদের বাকি টাকা কখন ও কীভাবে পরিশোধ করা হবে—এসব বিষয়ও সেখানে স্পষ্ট করা হবে।
অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত আমানতকারীদের জন্য নির্ধারিত ফেরত কাঠামোর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও অবসায়ন প্রক্রিয়ার ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরি বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করেই অদক্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়া শেষ করা প্রয়োজন। তার মতে, সম্ভবপর উপায়ে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ফেরতের অনিশ্চয়তায় থাকা চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার সময় ও পরিমাণ চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে সরকারের অনুমোদন, তহবিল ছাড় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত স্কিমের শর্তের ওপর।

