নিজস্ব সংবাদদাতা
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এ ধরনের কমিটি গঠন করা হলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমস্যা ও দাবিদাওয়া সরকারের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা সহজ হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ পরামর্শ দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে। পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করে।
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠন করা গেলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা সহজ হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় প্রতিনিধিদল আগামী নভেম্বরে রাজধানীর কমলাপুরে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অনুষ্ঠেয় কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহসভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সচিব রণজিৎ কুমার বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া, বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ সুমিত্তানন্দ ভিক্ষু (অনুপম বড়ুয়া) এবং রীটন কান্তি বড়ুয়া (স্বরূপানন্দ ভিক্ষু)সহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

