নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এ তথ্য জানান।
গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন। তার গন্তব্য ছিল নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসা। কিন্তু চালক সুমন তাকে শহরের দিকে না নিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে যান।
চলন্ত অটোরিকশা থেকে সেদিন দিবাগত রাতে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিলেন তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমন্ত বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান চালক।
ঘটনার পরদিন সকালে লালমাইয়ের ওই ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে চালক সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

