প্রায় ছয় মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। শীর্ষ নিরাপত্তা পদগুলোতে একঝাঁক কট্টরপন্থি ও প্রবীণ সামরিক কমান্ডারকে নিয়োগের মাধ্যমে তিনি দেশকে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নিয়োগের মধ্য দিয়ে যেকোনো হুমকি ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান এমন একটি পথ খুঁজছে, যার মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ—অক্ষুণ্ন রেখেই সংঘাতের অবসান ঘটানো যায়।
সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষই ছাড় দেওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাও সোমবার শেষ হয়েছে।
এ অবস্থায় পুরো অঞ্চল নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক নিয়োগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েবকে বাসিজ বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই ব্যবহৃত এই আধাসামরিক বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রদবদলের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর নতুন জেনারেল স্টাফ, রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন প্রধান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনীর কমান্ডারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে নৌবাহিনীর কমান্ডারের নিয়োগকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি বর্তমানে অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

