নিজস্ব সংবাদদাতা
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সংযুক্তি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে দেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তর আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং বন্ধ করতে হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের কোনো ধরনের মিল বা পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এডিপির নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। নতুন কোনো প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সরকারি প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমানো গেলে এডিপি বাস্তবায়নে তৈরি হওয়া অদক্ষতার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হবে।
মুক্তাদির বলেন, উৎপাদনশীলতা শুধু শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর বিষয় নয়; এটিকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করে অধিক ও উন্নতমানের পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেখিয়েছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। তাই দেশের ঘাটতি শুধু দক্ষতার নয়; নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে চ্যালেঞ্জ।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, এনপিওর মহাপরিচালক মোহা. নায়েব আলী, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান এবং ট্যুরিজম রিসার্চ ডেভেলপমেন্টের পরিচালক আবু সুফিয়ান বক্তব্য দেন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

