সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে সব প্রশাসক প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ব্যাংকগুলোর প্রশাসক নিয়োগের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকটি পরিচালিত হবে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহারের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শেষ হয়। তবে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় তদারকির আওতায় ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এসব ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৩০ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার করা হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার গত ১৬ জুলাই তিন বছরের জন্য দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন। তার যোগদানের পরই ব্যাংকটি থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদও গঠন করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকসহ মোট ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে বড় অঙ্কের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের পর উচ্চ খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট তৈরি হয়। এর ফলে এসব ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সমস্যায় পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের দেওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় আমানতকারীদের মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। এর বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে।
সারাদেশে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। প্রশাসক প্রত্যাহারের পর নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি অব্যাহত থাকবে।

