চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলঅভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিআইডিকে জানালে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ডন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি ফের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। ডন এজাহারনামীয় চার নম্বর আসামি। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার ঘটনার বিভিন্ন বিষয় আদালতের সামনে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন তার পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় গেলে তার স্ত্রী সামিরা হক তাদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। পরে রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজার সালমান শাহর পরিবারের সদস্যদের ডেকে জানান, তার কিছু একটা হয়েছে। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সামিরা হকের সঙ্গে ডনের কথিত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাদের দাবি, ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তাকে অচেতন করে পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম গত বছরের অক্টোবর মাসে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও অভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আগামী ৩০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

