জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কয়েকজন যোদ্ধার আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার লক্ষ্যে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে তাদের এসব বাহন তুলে দেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপহার পাওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা ও মিরপুর বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সিএনজি চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্লিনটার বিদ্ধ হয়।
অনুষ্ঠানে আজিজ শেখের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।’
কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. গফফারকে দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেন। পাশাপাশি নিজের রিকশায় আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।
গফফার জানান, উপহার পাওয়া একটি রিকশা তিনি ঢাকায় নিজে চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন এবং অন্যটি ভাড়া দেবেন। এর মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকেও দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে উপহার পাওয়া বাহনগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি নিরাপদে এসব বাহন নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

