নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে নির্বাচনী ইশতেহারের আরও একটি বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে ল্যাপটপের বাটন প্রেস করে দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে নগদ অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির ঐতিহাসিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ক্লিকের সাথে সাথেই টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তালিকাভুক্ত কৃষকদের মোবাইলে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে যায়। এর মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির পর বিএনপির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বড় মাইলফলক স্পর্শ করল বর্তমান সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতীকীভাবে ১৫ জন কৃষাণ-কিষাণির হাতে ‘কৃষক কার্ড’ ও গাছের চারা তুলে দেন। কার্ড প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য কৃষকরা হলেন আবু কায়সার, রোমান, শাহনুর আলম, শাহ আলম, জুলেখা আখতার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আখতার, শামীমা আখতার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা। সরাসরি কার্ড হাতে পেয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার কৃষক ও জনতা তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠে উপস্থিত কিষাণ-কিষাণিদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়, যা সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়।
কৃষক কার্ডের এই সূচনার মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ভবিষ্যতে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কৃষিঋণ ও ভর্তুকিসহ ১০ ধরনের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা লাভ করবেন। টাঙ্গাইলের এই সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কৃষকের উন্নয়নই বর্তমান সরকারের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।

