নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই পরিসংখ্যান জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন। সর্বশেষ এই তালিকায় পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন মানুষ। পুরুষ, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গ প্রতিটি শ্রেণিতেই ভোটারের সংখ্যা গত নির্বাচনের তুলনায় উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময় অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। ওই সময় পুরুষ ভোটার ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন।
এছাড়া সে সময় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে ১ হাজার ২৩৪ জন তালিকাভুক্ত ছিলেন। মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে ভোটারের এই ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও প্রকাশের এই প্রক্রিয়ায় এখন আর আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই। অতীতে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা এবং ২ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নিয়ম থাকলেও আইনি পরিবর্তনের ফলে এটি অনেক সহজ হয়েছে। ২০২৫ সালে ‘ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯’ সংশোধন করার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে বছরের যেকোনো সময় তালিকা হালনাগাদ ও প্রকাশের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
এই আধুনিক ও সময়োপযোগী আইনি পরিবর্তনের ফলেই এখন দ্রুততম সময়ে যোগ্য নাগরিকদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কমিশনের সর্বশেষ এই হালনাগাদ পরিসংখ্যানে।

