নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার প্রস্তাব নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে নামকরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছিল। প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার সুপারিশ করা হয়।
তবে ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি নোটে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, নতুন কোনো নামকরণ করতে হলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে সেটির নামকরণ করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্মাননা দেওয়ার নীতি অনুসরণের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
২০০৬ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ভিন্ন বার্তা বহন করছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের যে প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তার বিপরীতে এটি একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মশা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ফ্লোরিডা সফরের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন, বাস্তবমুখী উদ্যোগ এবং সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ওপর সরকারের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

