আফগানিস্তানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ লাখ শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে একজন চরম অপুষ্টিতে ভুগছে বলে সেভ দ্য চিলড্রেনের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে সেভ দ্য চিলড্রেনের গবেষণার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে আফগানিস্তানে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৬ সালে দেশটিতে প্রায় ৩৭ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হিসাবে, এ সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৬০০টি জরুরি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক শিশু।
তহবিল সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২২ সালে আফগানিস্তানের জন্য ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়া হলেও ২০২৫ সালে তা কমে ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। চলতি বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৪৩৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান ও ইরান থেকে ৬০ লাখের বেশি আফগান শরণার্থী দেশে ফিরে আসায় পরিস্থিতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এবং টানা চার বছরের খরাও আফগানিস্তানের সংকটকে আরও গভীর করেছে। সীমিত মানবিক সহায়তার ওপর এসব পরিস্থিতির বাড়তি চাপ পড়ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন আফগানিস্তানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে বলেন, আফগান শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পর দেশটিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর প্রভাব স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতেও পড়েছে।
বর্তমানে সেভ দ্য চিলড্রেন মাত্র ১৪টি ক্লিনিক চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে। সংস্থাটি আফগানিস্তানের উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

