যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রথম ধাপে ১০টি অঞ্চলে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, যেখানে ইনডোর গেমস, আর্চারি, শুটিং ও সুইমিংসহ আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ওসমানী স্টেডিয়ামে খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ, মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতি গঠনে কাজ করছেন। বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে খেলাধুলাকে পাঠ্যপুস্তকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। শিশু-কিশোরদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যেখানে খালি জায়গা থাকবে, সেখানে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত আট বিঘা জমিতে একটি করে খেলার উপযোগী মাঠ গড়ে তোলা যায়। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলাধুলার উপযোগী মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচে নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমি ও বন্ধন কোচিং সেন্টারের খেলা নির্ধারিত সময়ে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারেও উভয় দল সমানসংখ্যক গোল করায় দুই দলকেই যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

