নিজস্ব সংবাদদাতা
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।
বোয়িং কেনার কারণ ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। ফলে এসব উড়োজাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা অনেকটাই প্রস্তুত এবং প্রশিক্ষিত রয়েছে। এ কারণেই বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি পছন্দ রয়েছে।
বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
বোয়িং থেকে এতগুলো উড়োজাহাজ কিনলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, উড়োজাহাজগুলোর মূল্য একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে এর অর্থ পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে হাতে আসবে না।
নতুন বোয়িং কেনার অর্ডারের কারণে অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও রাষ্ট্রকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সরকারের আশা, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না এবং উড়োজাহাজ কেনার কারণে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না।
বোয়িংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বোয়িং কেনার অর্থ এয়ারবাসকে বাদ দেওয়া নয়; এয়ারবাসের প্রতিনিধিরাও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সরকার শুরু করেছে এবং বিষয়টি কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।

