আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, এমন অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো আফ্রিকান দেশে নির্বাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, অভিবাসন ঠেকাতে মানবিক দুর্ভোগকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটি বলছে, যেসব মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তাদেরও এমন আফ্রিকান দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে তাদের নাগরিকত্ব বা স্বাভাবিক বসবাসের দেশ নয়, এমন তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৫৩৬ জনকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, তারা ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার ছয়টি দেশে পাঠানো ২৪ জন তৃতীয় দেশের নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। দেশগুলো হলো ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, ইসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদান।
সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকায় নেওয়ার সময় তাদের হাত, কোমর ও পায়ে শিকল ও হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো যাত্রাজুড়ে, এমনকি ১৮ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় তাদের এভাবে রাখা হয়। অনেকেই কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আগে থেকে কোনো তথ্য পাননি।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পৌঁছানোর পর কিছু অভিবাসীকে ইচ্ছামতো আটক রাখা হয়েছে এবং কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির পরিপন্থী।
এই নীতির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এইচআরডব্লিউ। প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পালাউ বা ইসওয়াতিনির মতো দেশে পাঠানোর হুমকি দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ওই কর্মকর্তা মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শুনানিতে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে মানুষকে ভয় দেখানোর কথা বলেন।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের স্থানান্তর নিয়ে চুক্তি বা আলোচনা করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, অ্যাঙ্গোলা, বেনিন, বুরুন্ডি, কাবো ভের্দে, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, ইসওয়াতিনি, ঘানা, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা বা চুক্তির তথ্য পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন তৃতীয় দেশে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, যেসব দেশে পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়সংগত আশ্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই। একই সঙ্গে আফ্রিকার যেসব দেশ এ ধরনের ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে, তাদের চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

