আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে ব্যয় কমানো এবং কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দেশটির খসড়া বাজেটের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমায় অনুমোদনের জন্য খসড়া বাজেটটি জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল বা প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বছরের প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
খসড়া বাজেট অনুযায়ী, আগামী বছর সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিরক্ষা খাতে যাবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ—এই তিন খাতের সম্মিলিত বরাদ্দের চেয়েও প্রতিরক্ষা ব্যয় বেশি হবে। ২০২৮ ও ২০২৯ সালে সামরিক ব্যয় কিছুটা কমানোর পূর্বাভাস থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া একাধিকবার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিসের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র বলেন, প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রকাশিত অঙ্কের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ সামরিক খাতের কিছু ব্যয় গোপন রাখা হয়। তাঁর মতে, প্রকাশিত অঙ্কগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র।
খসড়া বাজেট প্রকাশের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সামাজিক কল্যাণ ও প্রতিরক্ষা—দুই খাতকেই অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নথিতে সামরিক খাতের বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।
আগের পরিকল্পনার তুলনায় ২০২৭ সালে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রায় ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সামাজিক নীতির আওতাভুক্ত ব্যয়ও প্রায় ৭ শতাংশ কমতে পারে। অবকাঠামো, সড়ক নির্মাণ ও কৃষিসহ ‘জাতীয় অর্থনীতি’ খাতেও বরাদ্দ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কাটছাঁটের তালিকায় সরকারের ক্যানসারবিরোধী কর্মসূচিও রয়েছে। নথি অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে আগের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ৯৭ শতাংশ অর্থ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘ইমপরট্যান্ট স্টোরিজ’-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে কলামিস্ট বরিস গ্রজোভস্কি বলেন, সরকারি কর্মীদের বেতন ও সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি অবকাঠামো প্রকল্প, বিশেষ করে নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়নেও ব্যয় কমানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের হাতে অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে।
বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ব্যাংক আমানত থেকে আয়সহ বিভিন্ন ধরনের আয় ও ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারকে আরও বেশি ঋণ নিতে হবে বলে বাজেটের পূর্বাভাসে দেখা গেছে।
২০২৭ সালে রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। একই সময়ে সরকারি ঋণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রুশ কর্তৃপক্ষ আগে নির্ধারণ করা ২০ শতাংশের ‘নিরাপদ’ সীমার ওপরে।
এ ছাড়া ২০২৭ সালে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন রুবলে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। যুদ্ধের ব্যয় ও রাজস্ব ঘাটতির চাপ সামাল দিতে কর বৃদ্ধি এবং ঋণ—দুই পথেই এগোচ্ছে মস্কো।

