নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরে তা হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায়।
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে আইনজীবীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এর পাশাপাশি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ও আদালত স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
ঘটনার একপর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দিকে এগিয়ে গেলে তাঁকে রক্ষা করতে সঙ্গে থাকা পুলিশ দেহরক্ষী কনস্টেবল জাহিদ সামনে দাঁড়ান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান বলেন, তাঁর দপ্তরে আইনজীবীরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের পক্ষের পিপির গায়ে হাত তোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে পুলিশ তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, তাঁরা সভাপতির কক্ষে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। পাশের জায়গা থেকে এক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে অপ্রীতিকর মন্তব্য করা হলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তাঁর দাবি, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।
পিপি নিয়োগ প্রসঙ্গে সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, সরকার প্রায় এক মাস আগে সুমন মিয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে একটি পক্ষ সেই নিয়োগ মেনে না নিয়ে তাঁর নির্ধারিত কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। এটি প্রশাসনিক ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারও আপত্তি থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তির বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে সামগ্রিকভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আইনজীবী সমাজের জন্যও বিব্রতকর।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তবে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় কোনো পক্ষের অভিযোগই এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনজীবী সমিতি ও সংশ্লিষ্টরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।

