নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া (১১) ও জিদনি (১৪) মারা গেছে। গুরুতর দগ্ধ লামিয়া (১৩) বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বাকি দুই শিক্ষার্থী আসিয়া (১২) ও সুমাইয়ার (১৩) শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনির মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়ার মৃত্যু হয়।
গত শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীদের বরাতে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে মাদ্রাসার ছাদে শিক্ষার্থীরা খেলছিল। ভবনের ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে তারা দগ্ধ হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আখ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখের পাতা বা অংশ উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে যাওয়ার পর বৈদ্যুতিক ঝলকানি সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দগ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ, জিদনির ৮২ শতাংশ এবং লামিয়ার ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আসিয়া ও সুমাইয়ার শরীরের যথাক্রমে ৭ ও ১৩ শতাংশ দগ্ধ হয়।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, জিদনি ও লামিয়া গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। পরে জিদনির মৃত্যু হয়। বর্তমানে লামিয়া আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থী আসিয়া ও সুমাইয়াকে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে দগ্ধ হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

