শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে হওয়া বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাত বছর বয়সী মুন্না। তার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যান শিশু মুন্নার বাবা মো. কালাম এবং বোন কথা। সোমবার সকালে মারা যান বাবা কালাম (৩৫)। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় সাত বছর বয়সী মেয়ে কথা। সর্বশেষ মুন্নার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানি হলো।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মো. কালামের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় মেয়ে কথা মারা যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় ছেলে মুন্না। বর্তমানে পরিবারের আরও দুই সদস্য—মা সায়মা (৩২) ও মেয়ে মুন্নি (১০)—হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

নিহত পরিবারটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকার ৬ নম্বর সড়কে শাহজাহান মিয়ার মালিকানাধীন একটি নয়তলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়।

জানা গেছে, নিহত মো. কালাম পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করছিলেন তিনি। হঠাৎ ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

গত রোববার ভোরে উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মো. কালাম, তাঁর স্ত্রী সায়মা, ছেলে মুন্না এবং দুই মেয়ে মুন্নি ও কথা দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্যাসলাইনের ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং গ্যাসলাইন পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।

ফতুল্লার এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

Share.
Exit mobile version