ইউরোপে পোশাক রপ্তানি খাতে আয় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরে রপ্তানি আয় প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট।
ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন ইউরো। তবে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৯১ মিলিয়ন ইউরোতে।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানিও কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে যেখানে ইইউ ২৩ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে সেই আমদানি কমে ২১ হাজার ৮৮ মিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ইউরোপের পোশাক আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ।
একই সময়ে ইউরোপে চীনের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের রপ্তানি কমেছে মাত্র ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে দেশটি ইউরোপে ১ হাজার ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২ মিলিয়ন ইউরোতে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ, ভারতের ১০ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ১৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ১৭ শতাংশ, মরক্কোর ১০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ১৮ শতাংশ। এসব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় কমেছে বাংলাদেশের।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সঙ্গে পণ্যের গড় মূল্য কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলে পরিমাণ ও মূল্য—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের রপ্তানি আয়ে।
বিশ্ববাজারে চাহিদার পরিবর্তন, মূল্য প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের ক্রয় প্রবণতায় পরিবর্তনের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশই এই অঞ্চলের বাজারনির্ভর। ফলে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি ও ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা ও দামের পরিবর্তনে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

