স্পোর্টস ডেস্ক
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় বসছে আন্তর্জাতিক নারী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট আইএইচএফ নেশনস ট্রফি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও এতে অংশ নেবে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে।
টুর্নামেন্টটি হবে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। এতে প্রতিটি দল একবার করে অন্য দলগুলোর মুখোমুখি হবে। ১৮, ১৯ ও ২০ অক্টোবর প্রতিদিন দুটি করে লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লিগ পর্ব শেষে ২১ অক্টোবর হবে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই। পরদিন ২২ অক্টোবর স্বর্ণপদকের জন্য মুখোমুখি হবে দুই ফাইনালিস্ট।
বাংলাদেশকে ফাইনালে তোলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী দলের অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি। তিনি বলেন, এবারই প্রথম বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন করেছে দল। তাঁদের লক্ষ্য ফাইনালে খেলা। তবে নেপাল ও মালদ্বীপের উন্নতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিশি বলেন, নেপালের আটজন খেলোয়াড় দেশটির সেনাবাহিনীর দলের হয়ে খেলেন। তাই নেপাল শক্ত প্রতিপক্ষ। শুধু ভারতকে নিয়ে ভাবলে চলবে না। দল সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলে ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো বলেন, মেয়েদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা সব দিক থেকেই চমৎকার। শুধু টুর্নামেন্ট জেতা নয়, বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবল দলের ভবিষ্যৎ ও আসন্ন প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য শক্ত ভিত গড়ে তোলাও তাঁদের লক্ষ্য।
দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার বিষয়টি তুলে ধরে কোচ বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী দলের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলোর বর্তমান সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন। তবে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ফাইনালে ওঠা এবং শিরোপা জয়ের জন্য লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে আগামী ১৮ অক্টোবর সকাল ১১টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের। উদ্বোধন ও সমাপনী দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকবে। প্রতিযোগিতার সব খেলা বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে জাতীয় দলকে প্রস্তুত করা হয়েছে। ৯০ জন খেলোয়াড় নিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ১৭ জনকে বাছাই করা হয়েছে। তাঁরাও ফাইনালে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী।
খালেকুজ্জামান জানান, শুরুতে পাঁচটি দলের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তান আসতে পারছে না। ইয়েমেনেরও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে দেশটি আসতে পারেনি।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আফগানিস্তান দলে ইরানের পাসপোর্টধারী পাঁচজন খেলোয়াড় ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের নিয়মে অনুমোদিত নয়। তাঁদের বাদ দিয়ে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও আফগানিস্তান তা মেনে নেয়নি। ফলে দলটির অংশগ্রহণের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
আসন্ন দক্ষিণ এশীয় গেমসকে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আগের দুই আসরে নেপালের বিপক্ষে দল ভালো করতে পারেনি। এবার গেমসে ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ফেডারেশন।
ফেডারেশনের সহসভাপতি গোলাম হাবিব বলেন, আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, একই সঙ্গে বড় দায়িত্বও। বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ দেশের নারী হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আয়োজন সফল করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, টুর্নামেন্ট কমিটি ও ফেডারেশন যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

