স্পোর্টস ডেস্ক
পুরুষদের ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জানা যাবে, গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরি হচ্ছেন কে। এবারের ৩০ জনের মনোনয়ন তালিকায় রয়েছেন হ্যারি কেইন, মাইকেল অলিসে, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও রদ্রি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদানের ভিত্তিতে আলোচনায় রয়েছেন এই তারকারা। তবে তাঁদের মধ্যে কে পুরস্কার জিতবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হ্যারি কেইন — বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড
২০২৫–২৬ মৌসুমে গোল করার ধারাবাহিকতায় নজর কেড়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে করা গোলসহ ক্লাব ও দেশের হয়ে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫ ম্যাচে ৭৩। বুন্দেসলিগার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোলের হিসাবেও উল্লেখযোগ্য মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। তাঁর এই পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গোল করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন কেইন। বায়ার্নের আক্রমণভাগে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপা ও বড় প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সও ভোটারদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে।
মাইকেল অলিসে — বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্স
বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মাইকেল অলিসে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতা তাঁকে আলাদা করেছে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই অবদান রেখেছেন এই ফরাসি তারকা। আক্রমণ তৈরি, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা বায়ার্নের সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।
অলিসের পারফরম্যান্স তাঁকে ব্যালন ডি’অরের ৩০ জন মনোনীতের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। তবে পুরস্কারের চূড়ান্ত ভোটে তাঁর অবস্থান নির্ভর করবে অন্য মনোনীতদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়নের ওপর।
লামিনে ইয়ামাল — বার্সেলোনা ও স্পেন
বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ২০২৫–২৬ মৌসুমে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার হয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ২০টি। আক্রমণভাগে তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও সুযোগ তৈরির দক্ষতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছে।
অল্প বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় রয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় অর্জন এবং পুরো মূল্যায়নকালজুড়ে তাঁর পারফরম্যান্স ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে — রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স
রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ২০২৫–২৬ মৌসুমে গোল করার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবের হয়ে ৬০ ম্যাচে ৫৮ গোল করার পাশাপাশি করেছেন ১৩টি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের হয়ে গোল করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের বিচারে তাঁর মৌসুম ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত সাফল্যের বিপরীতে দলীয় অর্জন কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালন ডি’অরের ভোটে গোলসংখ্যার পাশাপাশি বড় প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্স ও দলীয় শিরোপা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
রদ্রি — ম্যানচেস্টার সিটি ও স্পেন
স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং দলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিচিত। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ২০২৫–২৬ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলায় ফিরেছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে মাঠে নেমে মাঝমাঠে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি আবারও পুরস্কারটির মনোনীত হয়েছেন। গোলের পরিসংখ্যানের চেয়ে খেলা নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় কৌশলে অবদানের জন্য তাঁর মূল্যায়ন আলাদা। তবে চোটের কারণে খেলার সময় সীমিত থাকা এবং অন্য মনোনীতদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা তাঁর পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ১০০ জন সাংবাদিক। তাঁরা মনোনীত ৩০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ জনকে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় অর্জন ও শিরোপা এবং খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও ফেয়ার প্লে বিবেচনায় নিয়ে পয়েন্ট দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ই হন বিজয়ী।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জানা যাবে, ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর উঠছে কার হাতে।

