নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজকেন্দ্রিক মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা অসংগতিতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। প্রশস্ত সড়কে একাধিক ডিভাইডার, বিরতিহীন ও স্থানীয় যান চলাচলের লেনের বিভাজন, নির্দিষ্ট দূরত্বে ইউটার্ন না থাকা এবং উল্টো পথে যান চলাচলের কারণে এ এলাকায় যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
পূর্বাঞ্চলের ১৮ জেলার যানবাহন নির্বিঘ্নে ঢাকায় প্রবেশ এবং ঢাকা থেকে পূর্বাঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য দুই লেনের সড়ককে আট লেনে উন্নীত করা হয়েছে। তবে সড়কের বিভিন্ন অংশে তিন স্তরের ডিভাইডার স্থাপন করায় প্রশস্ত সড়কের কার্যকর ব্যবহার সংকুচিত হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের। তাদের দাবি, পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব ব্যবস্থাপনার সমন্বয় না থাকায় রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, চিটাগাংরোডের শিমরাইল মোড় চৌরাস্তার রেন্ট-এ-কার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, উল্টো পথে অটোরিকশা চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে ইউটার্নের ব্যবস্থা পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চিটাগাংরোডের হাজী ইব্রাহীম খলিল শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থাকা ইউটার্ন সরিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে সানারপাড় এলাকায় নেওয়ায়ও যানবাহন ও যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে বলে তাদের দাবি।
কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে ঢাকা থেকে পূর্বাঞ্চলগামী যানবাহনের বিরতিহীন লেনের ডিভাইডার ব্রিজের প্রায় মাঝামাঝি স্থানে শেষ করা হয়েছে। এতে চিটাগাংরোড-নারায়ণগঞ্জ রুটের কিছু যানবাহন স্থানীয় লেনের যানজট এড়াতে বিরতিহীন লেনে প্রবেশ করে পরে ডিভাইডারের কাছে উল্টো পথে গিয়ে কাঁচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে ওই এলাকায় হঠাৎ করে যানবাহনের গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য, বিরতিহীন লেন থেকে উল্টো পথে গিয়ে স্থানীয় সড়কে প্রবেশের সময় ব্রিজের ঢালু অংশে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে গতি কমিয়ে অন্য গাড়িকে পাশ কাটার সুযোগ দিতে হয়। এতে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি।
অন্যদিকে চিটাগাংরোড থেকে কাঁচপুরের দিকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা উল্টো পথে চলাচল করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নিয়ম মেনে চলাচলকারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের পর যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার বিষয়ে তাদের মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে উল্টো পথে অটোরিকশা চলাচলসহ অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সমস্যায় পড়ছেন।
সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের দাবি, চিটাগাংরোডের রেন্ট-এ-কার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, সড়ক ও জনপথের জায়গা দখলমুক্ত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
পরিবহন শ্রমিকদের প্রস্তাব, কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে বিরতিহীন লেনের ডিভাইডার আরও কিছুটা এগিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সাজেদা হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়া হলে চিটাগাংরোড-নারায়ণগঞ্জ সড়কের যানবাহনগুলো সহজেই বাম পাশ দিয়ে কাঁচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে আদমজী ইপিজেড, পদ্মা-মেঘনা অয়েল ডিপোসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পারবে। এতে বিরতিহীন লেন দিয়ে উল্টো পথে গিয়ে আবার স্থানীয় লেনে প্রবেশের প্রয়োজন হবে না। তাদের মতে, এতে দুর্ঘটনা ও যানজট দুটিই কমানো সম্ভব।
পরিবহন শ্রমিকরা আরও জানান, কাঁচপুর থেকে মৌচাক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় পর্যাপ্ত ইউটার্ন না থাকায় যানবাহনকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। হাজী ইব্রাহীম খলিল শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আগের ইউটার্ন ফিরিয়ে আনা অথবা চিটাগাংরোড চৌরাস্তায় ইউলুপ নির্মাণ করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে বলে তারা মনে করেন।
তাদের অভিযোগ, মাদানীনগর এলাকায় মহাসড়কের মাঝামাঝি স্থান থেকে হঠাৎ ডিভাইডার শুরু হওয়ায় অনেক চালককে শেষ মুহূর্তে লেন বেছে নিতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ডিভাইডারের কারণে রাস্তার স্বাভাবিক প্রশস্ততাও কমে গেছে।
পরিবহন শ্রমিকদের মতে, বিরতিহীন ও স্থানীয় যান চলাচলের লেনের বিভাজন পুনর্বিন্যাস করা এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় ডিভাইডার সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহনগুলো রাস্তার পাশে স্বল্প সময়ের জন্য যাত্রী নামানোর সুযোগ পেলে যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে সড়ক পার হতে হবে না।
তাদের আরও দাবি, চিটাগাংরোড থেকে রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়া, অটোরিকশার এলোমেলো অবস্থান বন্ধ করা এবং শিমরাইল মোড়ের যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এসব পদক্ষেপ নেওয়া গেলে কাঁচপুর ব্রিজের আশপাশে যানবাহনের উল্টো পথে চলাচল কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

