তীব্র গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় জেলার প্রায় সাড়ে ৪৫০টি ডায়িং কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একই কারণে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, গত দুদিন ধরে ডায়িং কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই। ফলে কাপড় রং করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিটি কারখানায় শত শত টন গ্রে কাপড় জমে আছে। ডায়িং থেকে ফেব্রিক্স না পাওয়ায় গার্মেন্টস কারখানাগুলোও নিয়মিত উৎপাদন চালাতে পারছে না।
ডায়িং কারখানার মালিকরা জানান, বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তুষ, কয়লা ও লাকড়ি ব্যবহার করে বয়লার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় এসব জ্বালানি পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প ব্যবস্থাতেও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ডায়িং কারখানা থেকে কোনো ফেব্রিক্স পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে। ফেব্রিক্সের অভাবে অনেক গার্মেন্টস কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
নিজের কারখানার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ডায়িং থেকে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্স না পাওয়ায় গত সাত দিন কারখানা বন্ধ রাখার পর বুধবার তা খোলা হয়েছিল। কিন্তু ফেব্রিক্স না থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে আবার কারখানা বন্ধ করতে হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েক দিনেও উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
ফজলে এহসান শামীম বলেন, ডায়িং থেকে ফেব্রিক্স না পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে প্রায় শতাধিক গার্মেন্টস কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ বা শিপমেন্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে পাইপলাইনের ন্যাচারাল গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজির চাহিদা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাবেই সরবরাহ ও চাপ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্যাস সংকটের কারণে ফেব্রিক্স ডায়িং করতে না পারায় সুইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং ও নিটিং বিভাগের শ্রমিকদেরও বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করলেও উৎপাদন না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে। দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গ্যাস সংকটে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন চালু রাখা গেলেও এতে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও কমতে পারে।
এদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও সংকট দেখা দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সিএনজি পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদা আক্তার জানান, নারায়ণগঞ্জে ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় প্রায় সবকটি স্টেশনই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতেও সংকট আরও বাড়তে পারে।

