আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাসহ ইউরোপের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্পের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি ‘পুরো পথ’ পাড়ি দিয়ে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে বার্নহাম বলেন, ২০২০ সালে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ ‘লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে’। তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের কারণে এক দশক ধরে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং ইউরোপ ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
বার্নহাম জানান, বছরের শেষ দিকে ইইউর ২৭ সদস্যদেশের সঙ্গে পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরবেন তিনি। নভেম্বরের ওই সম্মেলনে দুই পক্ষের সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
২০১৬ সালের গণভোটে ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্য। ব্রেক্সিটের পর থেকে দেশটির সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চললেও পুনরায় সদস্যপদে ফেরার বিষয়টি দীর্ঘদিন মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে ছিল।
বার্নহামের বক্তব্যের পর ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ২০২৪ সালের লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার বিষয়টি নাকচ করা হয়েছিল। বার্নহামের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বার্নহামের বক্তব্যকে এখনই ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত সম্ভাব্য বিভিন্ন পথের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনার কথা বলেছেন।
ব্রেক্সিটপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য বার্নহামের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, সরকার ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্তকে ধীরে ধীরে উল্টে দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। অন্যদিকে ইইউর কয়েকজন নেতা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

