স্পোর্টস ডেস্ক
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে গ্রুপ ‘ডি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করার পর এটি ছিল মার্কিনদের টানা দ্বিতীয় জয়, যা তাদের গ্রুপের শীর্ষে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর এটি ছিল স্বাগতিকদের টানা দ্বিতীয় জয়, যা তাদের গ্রুপের শীর্ষে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
এই জয়ের গুরুত্ব শুধু তিন পয়েন্টে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষার পর এমন কীর্তি স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ছিল ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পাওয়া কাফ ইনজুরির কারণে দলের অধিনায়ক ও প্রধান আক্রমণভাগের তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয় পচেত্তিনোকে। তবে সেই অনুপস্থিতি এক মুহূর্তের জন্যও বুঝতে দেয়নি মার্কিন দল। ফলারিন বালোগান, রিকার্দো পেপি, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও সার্জিনো দেস্তদের সমন্বয়ে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর চেপে বসে স্বাগতিকরা।
উচ্চগতির প্রেসিং এবং দ্রুত ট্রানজিশন ফুটবলের ফল আসে ম্যাচের ১১তম মিনিটেই। বাম প্রান্ত দিয়ে বালোগানের বিপজ্জনক ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস। বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে। অপ্রত্যাশিত সেই আত্মঘাতী গোল অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেয়, আর যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
গোল পাওয়ার পরও গতি কমায়নি স্বাগতিকরা। মাঝমাঠে ম্যাককেনির নিয়ন্ত্রণ এবং দেস্তের আগ্রাসী ওঠানামায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘ সময় নিজেদের অর্ধেই আটকে ছিল। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে সেই চাপেরই আরেকটি পুরস্কার পায় যুক্তরাষ্ট্র। একটি পরিকল্পিত সেট-পিস থেকে সৃষ্ট সুযোগে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান হেডে বল জালে পাঠান। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে বিরতির আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আর হারানোর কিছু ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। কোচ টনি পপোভিক একাধিক পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। নেস্টোরি ইরানকুন্ডা, কনর মেটকাফসহ কয়েকজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হয়। কিছু সময়ের জন্য সকারুরা ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছিল। কিন্তু টিম রিম ও ক্রিস রিচার্ডসের নেতৃত্বে মার্কিন রক্ষণভাগ ছিল অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসকেও খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।
৩৭ বছর বয়সী টিম রিমের নেতৃত্ব ছিল ম্যাচের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম পরিণত পারফরম্যান্স উপহার দেন। তাঁর পাশে ক্রিস রিচার্ডসও ছিলেন সমান দৃঢ়। ফলে পুরো ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে লুমেন ফিল্ডজুড়ে শুরু হয় উৎসব। গ্যালারিভর্তি দর্শক জানতেন, এই জয় শুধু নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেনি; বরং স্বাগতিকদের শিরোপা স্বপ্নকেও আরও বাস্তব করে তুলেছে। পুলিসিককে ছাড়াই যে যুক্তরাষ্ট্র এতটা সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী ও কার্যকর ফুটবল খেলতে পারে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই বার্তাই সবচেয়ে জোরালোভাবে পৌঁছে দিয়েছে পচেত্তিনোর দল।
এখন তাদের সামনে গ্রুপের শেষ ম্যাচ। কিন্তু নকআউটের টিকিট ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সেই ম্যাচে চাপ থাকবে অনেক কম। বরং যুক্তরাষ্ট্র এখন চোখ রাখছে আরও বড় লক্ষ্যেই—১৯৯৪ সালের পর নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে কতদূর যাওয়া যায়, সেই স্বপ্নের পথে।

