নিজস্ব সংবাদদাতা
হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় মঙ্গলবার এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। একই সময়ে তেলের দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাজারে এই চাপ দেখা যায়। আগের দিন ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোও দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী মাসে সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন প্রত্যাশাও বাজারে জোরালো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাও সপ্তাহান্তে ধাক্কা খায়। ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই আলোচনা আবার শুরু হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রানীতি আরও কঠোর রাখতে হতে পারে বলে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনও অস্বীকার করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে জব্দ ইরানি অর্থ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তিনি ইরানকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেননি।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ অর্থ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে ট্রাম্প ওই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় হওয়া বিভিন্ন বার্তা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুতিদের তৎপরতার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই বেড়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের নভেম্বর সরবরাহের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দামও ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলারে ওঠে।
এশিয়ার বাজারে টোকিও, সিউল ও হংকংয়ের প্রধান সূচকগুলো কমেছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও জোন্স ও নাসডাকও দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন। এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতির গতিপথও এখন বৈশ্বিক বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

