নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পরও একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ১৪ জন একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল।
নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার এগিয়ে এসে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে রায়েশা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, তাঁর ছেলে সজীব, মেয়ে সামিয়া ও শিশুপুত্র সামিন।
শুক্রবার দুপুরের দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীর প্রায় ১০০ ফুট নিচে ডুবে যাওয়া ট্রলারের অবস্থান শনাক্ত করে। নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি দল পানিতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছে। পানির নিচে অনুসন্ধানে ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের টানে নিখোঁজদের দেহ অন্যত্র ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিখোঁজ চারজনের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের স্বজনেরা মেঘনার তীরে অপেক্ষা করছেন। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় বিয়ের বাড়ির আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

