আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালের মানাং জেলার নার-ফু এলাকায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমালে তুষারধসে ১৪ জন নেপালি নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শেরপা, রান্নার কর্মী এবং পর্বতারোহণ দলের অন্যান্য সহায়ক কর্মী রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হিমলুং হিমালের একটি শিবিরে তুষারধসের পর প্রথমে আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়ায়। নিখোঁজ সবাই নেপালি নাগরিক। বিদেশি পর্বতারোহীরা তখনও সেখানে পৌঁছাননি এবং আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে তাদের যাওয়ার কথা ছিল।
বিদেশি পর্বতারোহীদের আগেই নেপালি কর্মীদের একটি দল পাহাড়ে পাঠানো হয়েছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল শিবির প্রস্তুত করা, পথ পরিষ্কার ও ব্যবস্থাপনা করা এবং দড়ি স্থাপনের মতো কাজ সম্পন্ন করা। তুষারধসের সময় ওই দলটি পাহাড়ে অবস্থান করছিল।
সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে হিমলুংয়ে থাকা এক শেরপা উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করেন। তখন আটজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর নিখোঁজের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছায়।
উদ্ধারের জন্য কাঠমান্ডু ও পোখারায় বেসরকারি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নেপালের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারগুলো এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। স্থলপথেও দ্রুত উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারছে না।
নেপালের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক রামকৃষ্ণ লামিছানে জানিয়েছেন, সরকার উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে সমন্বয় করছে। নিখোঁজদের মধ্যে রান্নার কর্মী, শেরপা গাইড ও অন্যান্য সহায়ক কর্মী রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হিমলুং হিমাল তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি মানাং জেলার নার-ফু এলাকায় অবস্থিত।
গত কয়েক দিন ধরে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানাসলু ও ধবলগিরিসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্বতারোহণ অভিযানও ব্যাহত হয়েছে।
হিমলুং হিমালের ঘটনায় এখন নিখোঁজ ১৪ জনকে উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। তবে অব্যাহত তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

