আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উন্মোচন করেছেন। কাতারের মালিকানাধীন ছিল এমন একটি পরিবর্তিত বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ এখন সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে নতুন বিমানটি প্রদর্শন করেন ট্রাম্প। বিমানবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে এই বিমানেই সফর করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনেও অংশ নিতে পারেন।
নতুন বিমানটির বাহ্যিক নকশায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত হালকা নীল রঙের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে গাঢ় নেভি ব্লু, লাল ও সাদা রঙের সমন্বয়। বিমানের এক পাশে প্রেসিডেন্টের সিল এবং লেজে বড় আকারের মার্কিন পতাকা সংযোজন করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বিদেশি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা ও উপস্থিতি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে এই বিমান।
অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, বিমানটিকে এমনভাবে রূপান্তর করা হয়েছে যাতে এটি কার্যত একটি ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’-এ পরিণত হয়েছে। তবে এই বিমান গ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই নৈতিকতা ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ, এটি কাতার সরকারের দেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল উপহার, যা গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বোয়িং ভিসি-২৫বি বিমানগুলো হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই জেটটি ‘সেতুবন্ধন’ বা অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বোয়িংয়ের কাছ থেকে সরাসরি অর্ডার করা নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমান ২০২৪ সালে সরবরাহ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা বিলম্বিত হয়ে এখন ২০২৮ সালের আগে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বিলম্বের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, নতুন বিমান সরবরাহে জট তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে কাতারের আমিরের কাছে একটি বিমান ব্যবহারের সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য উপযুক্ত মানের বিমান থাকা প্রয়োজন এবং দেশকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত যেকোনো বিমানকে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। কাতার থেকে পাওয়া বিমানটিতেও সেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যবহারের সময়কার অভ্যন্তরীণ বিন্যাসের বড় অংশ অক্ষত রাখা হয়েছে। বিমানটির নিরাপত্তা উন্নয়নে ব্যয় ৪০ কোটি ডলারের কম হবে বলেও আগেই জানিয়েছিল বিমানবাহিনী।
নতুন এই বিমান চালু হলেও বর্তমানে ব্যবহৃত ভিসি-২৫এ উড়োজাহাজ দুটি অবসরে যাচ্ছে না। বিমানবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন ভিসি-২৫বি বহরে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত পুরোনো বিমানগুলোও কার্যক্রমে থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কাতার থেকে পাওয়া জেট ও বিদ্যমান বিমান—উভয়ই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মিশনে ব্যবহার করা হতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই প্রেসিডেন্টীয় বিমানের নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই পরিকল্পনা বাতিল করলেও ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে এসে আবার নিজের পছন্দের রঙ ও নকশা কার্যকর করেন। ফলে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান শুধু একটি বিমান নয়, বরং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

